ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখে গঙ্গা বিলাসের পর্যটকরা মুগ্ধ

ভারতের উত্তর প্রদেশের বারানসি থেকে গত ১৩ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করেছিল বিশ্বের দীর্ঘযাত্রার বিলাসবহুল প্রমোদতরি ‘গঙ্গা বিলাস’।

ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখে গঙ্গা বিলাসের পর্যটকরা মুগ্ধ

 প্রমোদতরিটি বাংলাদেশ হয়ে ভারতের আসামের ডিব্রুগড় পর্যন্ত নদীপথে পাড়ি দেবে তিন হাজার ২০০ কিলোমিটার। মোট ২৭টি নদী পাড়ি দিতে সময় লাগবে ৫১ দিন।সেই গঙ্গা বিলাস গত শুক্রবার খুলনার কয়রা উপজেলার আংটিয়ারা বন্দরে পৌঁছায়। সেখানে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করেন সুইজারল্যান্ডের ২৭ জন এবং জার্মানির একজন পর্যটক। গতকাল শনিবার দুপুরে জাহাজটি বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের ৬ নম্বর জেটিতে ভেড়ে।প্রত্যেক পর্যটককে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। এরপর তাঁদের ভাপা পিঠা, পাটিসাপটা পিঠা, পোয়া বা বড়া পিঠা, ডাব, বরই, কমলা, পেয়ারাসহ বিভিন্ন দেশি পিঠা ও ফল দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। বাংলাদেশের আতিথেয়তা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে নিজেদের মুগ্ধতার কথা জানান পর্যটকরা। তাঁরা জানান, প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এসে নিজেদের ভাগ্যবান মনে করছেন।এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা, মোংলা বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলীসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।গঙ্গা বিলাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়োজিত রয়েছে কোস্ট গার্ড ও ট্যুরিস্ট পুলিশ। বিদেশি পর্যটকরা গতকাল বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ষাটগম্বুজ মসজিদ চত্বরে প্রবেশ করেন। তাঁদের ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান। পর্যটকরা প্রথমে ষাটগম্বুজ মসজিদ চত্বরে স্থাপিত জাদুঘরে প্রবেশ করেন। সেখানে তাঁরা ইসলাম ধর্ম প্রচারক ও শাসক খানজাহান আলীর সময়ের বিভিন্ন প্রত্নতত্ত্ব দেখেন। এরপর পর্যটকরা ষাটগম্বুজ মসজিদ ঘুরে দেখেন।এক ঘণ্টা ধরে তাঁরা মসজিদের ভেতর ও বাইরের অংশ ঘুরে দেখেন। অনেকেই আবার তাঁদের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোনে মসজিদের ছবি ধারণ করেন। মসজিদের অনন্য স্থাপত্যশৈলী দেখে অভিভূত হন তাঁরা। লাল পোড়া ইটের ওপরে নয়নাভিরাম কারুকার্য, ইটের দেয়ালে ভেতর ও বাইরের অংশে দৃষ্টিনন্দন টেরাকোটা দেখে মুগ্ধতার কথা জানান তাঁরা।এমভি গঙ্গা বিলাস আজ রবিবার সুন্দরবনে প্রবেশ করবে।  এরপর বরিশাল, ঢাকা, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, রংপুর হয়ে চিলমারী দিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ত্যাগ করে ভারতের আসামের উদ্দেশে যাবে।